মার্কিন ও ইসরাইলি ১৩ আকাশযান ভূপাতিতের দাবি ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ১৩টি উন্নতমানের ড্রোন ও আকাশযান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলা প্রতিহত করতে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব আকাশযান ধ্বংস করেছে।
শনিবার ৭ মার্চ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস আইআরজিসির খাতাম আল আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, গত শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শনিবার পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত প্রতিরক্ষা অভিযানে এসব আকাশযান ভূপাতিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও আর্টিলারি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এমকিউ ৯, হারমেস এবং অরবিটার মডেলের মোট ১৩টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এসব ড্রোন ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করলে সেগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর পশ্চিম, পশ্চিম এবং দক্ষিণাঞ্চলের পাশাপাশি ইসফাহান, কেরমান এবং রাজধানী তেহরান এলাকার আকাশসীমায় এসব ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। একই সময়ে ইসরাইলের পশ্চিম জেরুজালেম এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, পশ্চিম জেরুজালেমে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়বার বিমান হামলার সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক রাজনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তা জ্বালানি বাজারসহ বিশ্ব অর্থনীতিতেও নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্ব যখন অস্থিরতার এই সময় পার করছে, তখন শান্তি ও সংযমের পথই সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হয়ে উঠেছে। কারণ যুদ্ধের প্রতিটি মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষের জীবন, স্বপ্ন এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের আশা।