প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে বিরল প্রযুক্তির স্মার্টফোন, আলোচনায় এর নিরাপত্তা সুবিধা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে ব্যবহৃত একটি বিশেষ ধরনের স্মার্টফোনের ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রযুক্তিপ্রেমী ও নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সাধারণ স্মার্টফোনের তুলনায় ভিন্ন নকশা ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের কারণে ফোনটি নিয়ে কৌতূহল আরও বেড়েছে।
শুক্রবার ৬ মার্চ অনলাইন সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত ফোনটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিরিন ল্যাবস নির্মিত সিরিন ফিননি মডেলের একটি স্মার্টফোন। এটি বিশ্বের প্রথম দিকের ব্লকচেইনভিত্তিক স্মার্টফোনগুলোর অন্যতম হিসেবে পরিচিত। ২০১৮ সালের মে মাসে বাজারে আসার পর একই বছরের শেষ দিকে প্রযুক্তি বিশ্বে এটি বিশেষ পরিচিতি পায়।
ফোনটিতে কোয়ালকমের শক্তিশালী স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর ব্যবহৃত হয়েছে এবং এতে রয়েছে সিরিন ল্যাবসের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম। ডিভাইসটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ব্যবহারকারীর তথ্যের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ব্লকচেইন প্রযুক্তির কারণে এতে সংরক্ষিত তথ্য পরিবর্তন বা বিকৃত হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত কম বলে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা।
ডিভাইসটিতে দুটি আলাদা স্ক্রিন রয়েছে। মূল ফোনের উপরের অংশে একটি স্লাইডিং নিরাপত্তা স্ক্রিন সংযুক্ত আছে, যা বিশেষ নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। ব্যবহারকারীর নির্ধারিত পাসওয়ার্ড ও নিরাপত্তা তথ্য সঠিকভাবে মিললে তবেই ফোনটি পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করা যায়। ফলে অননুমোদিত কারও পক্ষে ডিভাইসটিতে প্রবেশ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।
এছাড়া এই ফোনে কোল্ড স্টোরেজভিত্তিক একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট রয়েছে, যা মূল অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার এবং ইন্টারনেট সংযোগ থেকে আলাদা রাখা হয়। এতে টোকেন কনভার্সন সার্ভিস সুবিধা রয়েছে, যার মাধ্যমে অনলাইন এক্সচেঞ্জ ছাড়াই সরাসরি ক্রিপ্টোকারেন্সি আদানপ্রদান করা সম্ভব।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চপর্যায়ের তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রপ্রধান, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এমন উন্নত নিরাপত্তাসম্পন্ন ডিভাইস ব্যবহারের প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে।
সিরিন ল্যাবসের তৈরি এই স্মার্টফোনগুলোর দাম সাধারণত ৯৯৯ থেকে ৩৫০০ মার্কিন ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে। বর্তমানে নতুন অবস্থায় বাজারে খুব বেশি পাওয়া না গেলেও কিছু ক্ষেত্রে সেকেন্ড হ্যান্ড ডিভাইস পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন রাষ্ট্র ও ব্যক্তিগত জীবনের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহারই পারে ভবিষ্যতের ডিজিটাল বিশ্বকে আরও নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং আস্থাশীল করে তুলতে।