পারস্য উপসাগরে মার্কিন তেল ট্যাংকারে হামলার দাবি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পারস্য উপসাগরে একটি মার্কিন তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস আইআরজিসি। এ ঘটনাকে ঘিরে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে যে ইরানের নৌবাহিনী একটি মার্কিন তেল ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে সফল হামলা চালিয়েছে। তবে হামলার প্রকৃতি বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টারের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একই দিনে কুয়েত উপকূলের নিকটবর্তী সমুদ্র এলাকায় একটি তেলবাহী ট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে।
একই সময় ইরাকেও তেলবাহী জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে ইরাকের নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানানো হয়, ইরাকের খোর আল জুবাইর বন্দরে বাহামা পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাংকারে একটি নৌকা ধাক্কা দেয়। এতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কিছু পরিমাণ তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান সংঘাত এখন ষষ্ঠ দিনে পৌঁছেছে। সংঘাতের মধ্যে ইরানজুড়ে এখন পর্যন্ত এক হাজার দুই শত ত্রিশ জন মানুষের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা শুরু করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। সে সময়ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছিল বলে আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা যায়।
হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে ইসরাইলের পাশাপাশি বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগর ও আশপাশের সমুদ্রপথ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সংযমী পদক্ষেপ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।