পড়ন্ত বিকেলের পরিব্রাজক আমি, দায়িত্ব হস্তান্তরের অপেক্ষায় ঢাবি উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান জানিয়েছেন, দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে তিনি এখনো সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমতির অপেক্ষায় আছেন। দায়িত্বের শেষ প্রান্তে এসে নিজেকে পড়ন্ত বিকেলের পরিব্রাজক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি সামনে হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক তার কাছে মূল্যবান স্মৃতি হয়ে থাকবে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ডাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান জানান, দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়নি এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সরকারের পর্যায়ে চলছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি বড় প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব পরিবর্তন একটি জটিল প্রক্রিয়া। তাই তা সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে সময় লাগতে পারে এবং তিনি ধৈর্য সহকারে সেই প্রক্রিয়ার অগ্রগতির অপেক্ষায় রয়েছেন।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, গত দেড় বছরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের পারস্পরিক সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় এগিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শান্তি, সহাবস্থান ও সম্প্রীতির যে পরিবেশ গড়ে উঠেছে, তা ভবিষ্যতের জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের আন্তরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে আরও ইতিবাচক করেছে। তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য দোয়া করেন এবং তাদের কাছ থেকেও দোয়া কামনা করেন, যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সুন্দর পরিবেশ ভবিষ্যতেও অটুট থাকে।
ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি আবু সাদিক কায়েম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য প্রশাসন অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ, ডাকসুর ট্রেজারার অধ্যাপক মোশাররফ হোসেনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ছাত্রসংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ইফতার অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের এই মিলনমেলা যেন স্মরণ করিয়ে দেয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেবল জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মানবিকতা ও ঐক্যের বন্ধনে গড়ে ওঠা একটি বড় পরিবার।