ইসরাইলি বিমান হামলায় লেবাননে নিহত বেড়ে ৭২, আহত শতাধিক
লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। একই ঘটনায় কমপক্ষে ৪৩৭ জন আহত হয়েছেন। সংঘাতের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। এক বিবৃতিতে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, চলমান হামলার ফলে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে লেবাননের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানিয়েছেন, চলমান সংঘাতের কারণে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৮৩ হাজার ৮৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণাঞ্চল ও রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরাইলে রকেট হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে।
পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় ইসরাইলি বাহিনী লেবাননের ভেতরে নতুন করে স্থল অভিযানও শুরু করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ইতিমধ্যে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর অবস্থান নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
চলমান সংঘাতে লেবাননের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন বিভিন্ন বিশ্লেষক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো। কারণ সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই বাড়বে মানবিক সংকট এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষের জীবন।