মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জাতিসংঘের পারমাণবিক সংস্থার
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা আইএইএ। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে অঞ্চলে তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা পরিবেশ ও মানবিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই উত্তেজনা আরও বাড়ার আগে সব পক্ষকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সংঘাত বাড়তে থাকলে পারমাণবিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি দেখা দিতে পারে, যা এ অঞ্চলের পাশাপাশি বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সর্বশেষ স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে ইরানে যেসব স্থাপনায় পারমাণবিক উপাদান সংরক্ষণ করা হয় সেগুলোতে বড় ধরনের কোনো ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে বর্তমানে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে তারা জানিয়েছে।
তবে মধ্য ইরানের ইসফাহান শহরের নাতানজ পারমাণবিক স্থাপনার নিকটবর্তী দুটি ভবনে ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া গেছে। আইএইএ জানিয়েছে, সেখানে সীমিত কিছু ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেলেও পারমাণবিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি বা অতিরিক্ত তেজস্ক্রিয়তার কোনো লক্ষণ শনাক্ত হয়নি।
এছাড়া ইরানের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাও পর্যবেক্ষণের আওতায় রয়েছে। দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রসহ অন্যান্য স্থাপনাতেও উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আইএইএ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে এবং যেকোনো সম্ভাব্য ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব পক্ষের সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংস্থাটি।
বিশ্বের নিরাপত্তা ও মানবতার স্বার্থে সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার পথই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। শান্তি ও সংযমের এই আহ্বানই আজকের অস্থির পৃথিবীতে সবচেয়ে জরুরি বার্তা।