মার্কিন নৌবাহিনীকে ভারতীয় বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি, দাবি প্রত্যাখ্যান ভারতের
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ভারতীয় বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এমন দাবি নাকচ করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ধরনের তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া বলে উল্লেখ করেছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিবের সাবেক উপদেষ্টা ডগলাস ম্যাকগ্রেগর একটি ডানপন্থী মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন নৌবাহিনীর কিছু জাহাজ ভারতীয় বন্দর ব্যবহার করে থাকতে পারে। তার এ বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে মঙ্গলবার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানায়, টেলিভিশন চ্যানেলটিতে প্রচারিত এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। বুধবার এ বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতের বন্দর মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যবহারের বিষয়ে যে দাবি প্রচারিত হয়েছে তা বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এ ধরনের ভিত্তিহীন ও মনগড়া মন্তব্য থেকে বিরত থাকা উচিত। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সংবেদনশীল হওয়ায় দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রদান করা সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে নয়াদিল্লি।
এদিকে শ্রীলঙ্কার উপকূলে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন হামলার ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ওই ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ভারত আয়োজিত একটি সামরিক মহড়া শেষে শ্রীলঙ্কার দিক থেকে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে ঘিরে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর অবস্থান ও কর্মকাণ্ড এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল তথ্য প্রকাশ ও পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্ব যখন সংঘাত ও উত্তেজনার নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন শান্তি, সংলাপ ও পারস্পরিক সম্মানই পারে ভবিষ্যৎকে নিরাপদ ও স্থিতিশীল করে তুলতে।