ইরানে দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও সামরিক সক্ষমতার ওপর একাধিক আঘাত হানা হয়েছে।
বুধবার ৪ মার্চ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, অভিযানে ইরানের শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এর ফলে ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আরও জানান, অভিযানের সময় ইরানের নৌ সক্ষমতার ওপরও আঘাত হানা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই সামরিক অভিযানে ইরানের অন্তত ২০টি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া শ্রীলঙ্কার উপকূলবর্তী এলাকায় একটি ইরানি সাবমেরিন ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে। এর প্রভাব শুধু আঞ্চলিক রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও এর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যেও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। এতে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেখা দিলে সেখানে কর্মরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে দেশের জ্বালানি ব্যয় ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ব পরিস্থিতির এই পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় শান্তিপূর্ণ সমাধান ও কূটনৈতিক উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, তার প্রভাব তত বিস্তৃতভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মানবিক পরিস্থিতির ওপর পড়তে পারে।