ইরানে সামরিক হামলার বিপক্ষে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক, জরিপে প্রকাশ
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে দেশটির জনমতের একটি বড় অংশ নেতিবাচক অবস্থান নিয়েছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী মার্কিন নাগরিকদের ৪৩ শতাংশ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার বিরোধিতা করেছেন। বিপরীতে মাত্র প্রায় এক-চতুর্থাংশ উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য যৌথ সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সপ্তাহান্তে পরিচালিত এই জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের এক হাজার দুইশোর বেশি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে সিএনএনের জন্য এসএসআরএস পরিচালিত আরেকটি জরিপেও হামলার বিরোধিতার প্রবণতা আরও বেশি দেখা গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে পরিচালিত ওই জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৬ জন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে মত দিয়েছেন। সেখানে ৪১ শতাংশ উত্তরদাতা সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন।
একই জরিপে আরও দেখা যায়, প্রায় ৬০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন ইরান ইস্যু মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুস্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। পাশাপাশি ৩৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সামরিক শক্তি ব্যবহারের আগে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গ্রহণ করেনি।
জরিপগুলোতে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতেও জনমতের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে ৮২ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ ইরানে সামরিক হামলার বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের মধ্যে মাত্র ২৩ শতাংশ এ ধরনের পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের এই মতামত দেশটির পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনাকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে আনতে পারে। শান্তি, সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের পথই বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করেন অনেক পর্যবেক্ষক।