ইসরায়েলে ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের অভিযোগ ইরানের বিরুদ্ধে, আহত অন্তত ১২
ইসরায়েলে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনী আইডিএফ জানিয়েছে, দেশের মধ্যাঞ্চলে চালানো এক হামলায় এ ধরনের অস্ত্রের সাব মিউনিশন ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এতে এক ডজনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
আইডিএফের তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার বোমা বহন করা হয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুর কাছে পৌঁছানোর পর এর ওয়ারহেড খুলে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছোট ছোট বোমা ছড়িয়ে পড়ে।
তেল আবিব জেলার কমান্ডার হাইম সারগারফ সাংবাদিকদের জানান, ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি স্থানে ক্লাস্টার বোমা হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ক্লাস্টার বোমা বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যস্থলের কাছে পৌঁছালে এর প্রধান অংশ খুলে গিয়ে প্রায় আট কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে প্রায় ২০টি ছোট বিস্ফোরক ছড়িয়ে দেয়। প্রতিটি সাব মিউনিশনে প্রায় আড়াই কেজি বিস্ফোরক থাকে।
আইডিএফ আরও দাবি করেছে, এর আগেও গত বছরের জুন মাসে সংঘটিত সংঘাতে ইরান একই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছিল।
হামলার পর ইসরায়েলের উদ্ধারকারী দল এবং জরুরি সেবা সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ শুরু করেছে। তারা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের চেষ্টা করছে।
ইসরায়েলি চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশের মধ্যাঞ্চলে অন্তত ১২ জন সামান্য আহত হয়েছেন।
তবে এ ঘটনায় বেসামরিক নাগরিকদের জন্য জারি করা হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নিরাপত্তা নির্দেশনায় আপাতত কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে এর প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।