ইরান যুদ্ধের সমালোচনার জবাব দিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান সমালোচনার জবাব দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতি বিবেচনায় এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন এবং সেই কারণেই ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবার আইনপ্রণেতাদের জন্য আয়োজিত একটি রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও প্রশাসনের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের নীতিগত অবস্থান হলো যুক্তরাষ্ট্র আগে আঘাত করতে চায় না। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক মিশনের সাফল্য নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
এর আগে রুবিও মন্তব্য করেছিলেন যে ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে দৃঢ় অবস্থানে ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা ছিল, ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে পারে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র আগাম পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে তিনি ব্যাখ্যা দেন।
রুবিও আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো অবস্থাতেই নিজেদের সেনাদের ঝুঁকির মুখে ফেলতে চায় না। তার মতে, নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষাই প্রশাসনের প্রধান বিবেচনা।
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে না। এ বিষয়টি ওয়াশিংটনের জাতীয় নিরাপত্তা নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রুবিওর এই মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতি ও সামরিক কৌশল নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও কূটনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সংলাপ ও দায়িত্বশীল কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে।