ইরানে হামলা নিয়ে আগাম প্রতিরোধের ব্যাখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানে সামরিক অভিযানে জড়ানোর বিষয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
মঙ্গলবার ৩ মার্চ ওয়াশিংটনে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলা এবং তার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন বাহিনীর ওপর পাল্টা আঘাতের আশঙ্কা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
রুবিওর ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাইল আত্মরক্ষার যুক্তিতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনায় অটল ছিল। সে ক্ষেত্রে তেহরান ইসরাইলের পাশাপাশি মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে পারে বলে হোয়াইট হাউসের আশঙ্কা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনাদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সোমবার ২ মার্চ রাতে ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ের পর কংগ্রেসে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দেয়। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া। তার মতে, এই নীতিই অভিযানের ভিত্তি।
তবে ডেমোক্র্যাট নেতারা অভিযানের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার একে ট্রাম্পের যুদ্ধ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, প্রশাসনের ব্যাখ্যা পর্যাপ্ত নয়। সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মার্ক ওয়ার্নারও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরাসরি হুমকি না থাকলেও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া একটি ঝুঁকিপূর্ণ নজির স্থাপন করতে পারে।
চলমান বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার খবর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। একই সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের ছয়জন সেনা নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নিহতের সংখ্যা পাঁচশো ছাড়িয়েছে।
হাউস স্পিকার মাইক জনসনসহ রিপাবলিকান নেতারা অভিযানে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সমর্থন করেছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন আনার উদ্যোগ নিয়েছেন, যার মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কংগ্রেসের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রস্তাবটি পাস হওয়া বা প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য ভেটো অতিক্রম করা কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যখন চরমে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখা হবে কি না, সেটিই এখন বৈশ্বিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।