হামলা অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা চলতে থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
মঙ্গলবার ৩ মার্চ ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের জেনারেল ইব্রাহিম জাব্বারি এ সতর্কবার্তা দেন।
তিনি বলেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে অঞ্চলজুড়ে অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোও পাল্টা হামলার আওতায় আসবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
জেনারেল জাব্বারি আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে ৮০ ডলারের ওপরে উঠেছে এবং পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলার অতিক্রম করেছে, যা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো এমন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল এই সংকীর্ণ জলপথ অতিক্রম করে। একই সঙ্গে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসও এ পথেই রপ্তানি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালীতে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তবে ইরানের ঘোষণার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। সংযম, কূটনৈতিক সংলাপ ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাই এখন পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার প্রধান উপায় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।