তিনদিন পর প্রকাশ্যে নেতানিয়াহু, ট্রাম্পকে ধন্যবাদ
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে তিনদিন পর জনসমক্ষে হাজির হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
মঙ্গলবার ৩ মার্চ জেরুজালেমের পশ্চিমে বেইত শেমেশ এলাকায় ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, অপারেশন রোরিং লায়ন নামের অভিযানের তৃতীয় দিনে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের অস্তিত্বের প্রতি হুমকি প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তার দাবি, এই পদক্ষেপ শুধু ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার স্বার্থেও নেওয়া হয়েছে।
নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, ইরান বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তিনি বলেন, ইসরায়েল সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালেও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তেহরান পারমাণবিক সক্ষমতা ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র অর্জন করলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের হুমকি কেবল ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরেও এর প্রভাব রয়েছে বলে তাদের আশঙ্কা।
পরিদর্শন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানান নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশ্বনেতাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে উত্তেজনা আরও বিস্তৃত হতে পারে।
সংঘাতময় এই প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে বহুদূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।