ইরান সংকটে যুদ্ধে জড়াবে কি উপসাগরীয় দেশগুলো
পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর বিভিন্ন শহরে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণ নতুন মোড়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার ৩ মার্চ আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হামলায় অবকাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর দীর্ঘদিনের স্থিতিশীল ও সংঘাতবিমুখ ভাবমূর্তিও চাপে পড়েছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিল জিসিসিভুক্ত দেশগুলো কঠিন কূটনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি, অন্যদিকে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে তারা।
কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জসিম বিন জাবির আল সানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো উচিত নয়, যদিও তেহরান তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার মতে, এ ধরনের সংঘর্ষ উভয় পক্ষের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হবে এবং বাইরের শক্তিগুলোর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করবে। তিনি যেকোনো আগ্রাসনের ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের আহ্বান জানান।
দোহাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ টাইমসের সম্পাদক ফয়সাল আল মুদাহাকা আল জাজিরাকে বলেন, বর্তমান সংঘাত মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের দ্বন্দ্ব, উপসাগরীয় দেশগুলো এতে সরাসরি পক্ষ হতে চায় না। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে তারা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, তবে তাদের অগ্রাধিকার উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও সংলাপ।
সাম্প্রতিক হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত ও বাহরাইনে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। একই সময়ে কূটনৈতিক মহলে উত্তেজনা প্রশমনে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।
হামলার আগের সপ্তাহে ওমান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংলাপের মধ্যস্থতা করেছিল বলে জানা গেছে। আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও দ্রুত পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, উপসাগরীয় দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহী হলেও নিজেদের ভূখণ্ড, জনগণ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। একই সঙ্গে তারা কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চাইছে।
বর্তমান পরিস্থিতি উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য এক সংবেদনশীল পরীক্ষা। যুদ্ধ ও জোট রাজনীতির চাপের মাঝেও শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সম্ভব কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আঞ্চলিক নেতাদের বিচক্ষণতা ও সংযমই নির্ধারণ করবে উপসাগরীয় দেশগুলো সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে, নাকি কূটনীতির পথেই সংকট উত্তরণের চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।