আকাশ প্রতিরক্ষায় চাপ বাড়ছে উপসাগরীয় দেশগুলোর, যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও বাড়ছে প্রত্যাশা
উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার ৩ মার্চ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ও চলমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত কমে আসছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, টানা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কারণে এসব দেশের বিদ্যমান মজুদে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দ্রুত পুনরায় সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত পরিস্থিতি তৈরি হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতির ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রনির্মিত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার পর থেকে তাদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোনের সমন্বিত ব্যবহারের কৌশল প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দ্রুত চাপে ফেলতে পারে। বহুমাত্রিক হামলা প্রতিহত করতে বিপুল পরিমাণ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারের প্রয়োজন হয়, যা মজুদ দ্রুত হ্রাসের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে, উপসাগরীয় দেশগুলো পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত না করতে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করতে পারে। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় পর্যায়ে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে ইন্টারসেপ্টর সংকট বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ভারসাম্যে বড় প্রভাব পড়তে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন উপসাগরীয় অঞ্চলে। যুদ্ধ প্রস্তুতি, কূটনৈতিক তৎপরতা ও জোট রাজনীতির সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে সামনের দিনগুলোতে এই অস্থিরতার গতি কোন দিকে মোড় নেয়।