মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রভাব, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
সোমবার ২ মার্চ সৌদি আরবের আরামকো তেল শোধনাগার ও কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন অবকাঠামোতে হামলার পর উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়, যার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যদিও পরবর্তী সময়ে কিছুটা কমে তা ৭৯ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়ায়। সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালির কাছে অন্তত তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর থেকেই বাজারে অস্থিরতা বাড়তে থাকে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সতর্কবার্তা এবং হামলার ঘটনায় সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানিয়েছে, প্রণালিতে দুটি জাহাজে হামলার পাশাপাশি আরেকটি জাহাজের নিকটে একটি অজ্ঞাত বস্তু বিস্ফোরিত হয়েছে।
কাতারের এলএনজি স্থাপনায় হামলার পর কাতার এনার্জি উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর প্রভাবে ইউরোপীয় গ্যাসবাজারে দাম প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব শেয়ারবাজারেও পড়েছে। লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক প্রায় ১ শতাংশ কমে লেনদেন শুরু করে। ফ্রান্সের সিএসি ৪০ সূচক ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং জার্মানির ডিএএক্স সূচক ১ দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আকাশপথ বন্ধ থাকায় বিমান পরিবহন খাতের শেয়ারেও চাপ দেখা গেছে।
অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত সোনার দামও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এর মূল্য ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৩৯৫ দশমিক ৯৯ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও সুদের হারে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে নৌপরিবহন কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও সতর্ক করছেন তারা।
বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন ধীরগতির পুনরুদ্ধারের পথে, তখন জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দিকে। শান্তিপূর্ণ সমাধান ছাড়া স্থিতিশীলতা ফেরানো কঠিন হবে বলেই মনে করছেন অর্থনীতি সংশ্লিষ্টরা।