ইরানের বিরুদ্ধে বড় হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, প্রয়োজনে স্থলবাহিনী পাঠানোরও ইঙ্গিত
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার ২ মার্চ স্থানীয় সময় মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এখনো যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণমাত্রার আঘাত হানেনি, তবে শিগগিরই বড় ও শক্তিশালী হামলা চালানো হতে পারে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বড় পরিসরের হামলা সামনে আসছে এবং সেটি হবে অত্যন্ত শক্তিশালী। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করেছে।
সম্ভাব্য যুদ্ধের সময়সীমা প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি চান না সংঘাত দীর্ঘায়িত হোক। তাঁর ধারণা ছিল, পরিস্থিতি চার সপ্তাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে, যদিও বাস্তবতা ভিন্নও হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিক যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ যুদ্ধে সবচেয়ে বড় বিস্ময় হিসেবে ট্রাম্প উল্লেখ করেন প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলাকে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডান লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথমদিকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সীমিতভাবে যুক্ত থাকতে চাইলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তারা আরও সক্রিয় ও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে।
একই দিনে দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, প্রয়োজন হলে ইরানে মার্কিন স্থল সেনা মোতায়েনের বিষয়টিও তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তাঁর এই মন্তব্য সম্ভাব্য সংঘাতের বিস্তৃতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্টের এ ধরনের অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কূটনৈতিক মহল মনে করছে, সরাসরি সামরিক সংঘাতের আগে আলোচনার পথ খোলা রাখা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব রাজনীতির এই সংবেদনশীল মুহূর্তে প্রতিটি সিদ্ধান্ত কেবল একটি দেশের নয়, বরং পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। তাই শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি শান্তি ও সংযমের বার্তাই হতে পারে সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।