যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো আলোচনা নয়, ইরানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
মার্কিন গণমাধ্যমে ইরান আলোচনা চেয়েছে বলে যে দাবি প্রচারিত হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে নাকচ করেছে তেহরান। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি আলী লারিজানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় যাচ্ছে না ইরান।
সোমবার ২ মার্চ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য প্রকাশ করে। লারিজানি বলেন, ইরান বর্তমানে কেবল আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে এবং চলমান সংঘাত তাদের পক্ষ থেকে শুরু হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধের সূচনা করেনি।
কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, তেহরান অতীতে দুই দফা কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছিল। ২০২৫ সালে আলোচনার সময় মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার ঘটনায় সেই প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতেও যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার সঙ্গে নতুন করে সংলাপের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তবে আবারও সামরিক হামলার ঘটনায় তা অনিশ্চিত হয়ে যায়। ফলে কূটনৈতিক পথ এখন কতটা কার্যকর থাকবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত নেই।
এদিকে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তাদের সামরিক ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে অনুমতি দেওয়া হবে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের অংশীদার দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত সহায়তা চেয়েছে। সমন্বিত প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের অংশ হিসেবে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান আকাশে টহল দিচ্ছে এবং সেগুলো ইরানের হামলা প্রতিহত করতে ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইরানের এই ঘোষণা আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ সংকুচিত হলে সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশ্ব রাজনীতির এই সংবেদনশীল মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিটি সিদ্ধান্তই শুধু একটি দেশের নয়, গোটা অঞ্চলের ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সংঘাত নয়, স্থিতিশীলতা ও সংলাপই এখন বৈশ্বিক প্রত্যাশা।