মধ্যপ্রাচ্যের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনে ঢাকার তীব্র নিন্দা
মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বাহরাইন, ইরাক, জর্দান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম উল্লেখ করে রোববার ১ মার্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানকেন্দ্রিক সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং বেসামরিক জনগণের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়।
বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। সামরিক তৎপরতা বন্ধ করে দ্রুত কূটনৈতিক সংলাপে ফিরে আসার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মতপার্থক্য নিরসনে আলোচনার পথই একমাত্র টেকসই সমাধান বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বাংলাদেশ আশা করে অচিরেই উত্তেজনা প্রশমিত হবে এবং অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
বিবৃতিতে সাতটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করা হলেও ইরানের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এদিকে শনিবার ইরানজুড়ে বৃহৎ সামরিক অভিযান শুরু হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্যানুযায়ী, হামলায় দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন শীর্ষ নেতা রয়েছেন।
বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট—সংঘাত নয়, শান্তিই হতে পারে স্থায়ী সমাধান। কারণ যুদ্ধের অভিঘাত কেবল সীমান্তে থেমে থাকে না, তা প্রভাব ফেলে মানবিক নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং বিশ্বস্থিতিশীলতার ওপরও। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি আহ্বান।