হরমুজ প্রণালির দুই প্রান্তে আটকে শতাধিক তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ
ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার দ্বিতীয় দিনেও অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে, যেখানে উভয় পাশে শতাধিক জাহাজ আটকে পড়েছে।
সোমবার ২ মার্চ প্রাপ্ত জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫০টি ট্যাংকার প্রণালির বাইরে উপসাগরের খোলা পানিতে নোঙর করে রয়েছে। এসব জাহাজের মধ্যে অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজি বহনকারী জাহাজও রয়েছে।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের অপর প্রান্তেও আরও বহু জাহাজ স্থির অবস্থায় অপেক্ষা করছে। সাম্প্রতিক যৌথ সামরিক অভিযানের পর অঞ্চলটি পুনরায় সংঘাতের মুখে পড়ায় জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রয়টার্স বার্তা সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্যের বরাতে জানিয়েছে, ইরাক ও সৌদি আরবের মতো প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশের উপকূলসংলগ্ন খোলা জলসীমায় বিপুলসংখ্যক ট্যাংকার অবস্থান নিয়েছে। একইভাবে বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক কাতারের উপকূলের কাছেও বেশ কিছু জাহাজ অপেক্ষমাণ রয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। চলমান সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, শিপিং খাত ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তা উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
বর্তমান পরিস্থিতি কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই দ্রুত উত্তেজনা প্রশমিত করে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।