নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক স্থানে ইরানের হামলার খবর
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এতে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল ও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
রোববার ১ মার্চ বিবিসি ফার্সি জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, কাতারের দোহা, বাহরাইনের রাজধানী মানামা এবং সৌদি আরবের রিয়াদে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আঘাতের ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ইরান নিউজ নেটওয়ার্ককে দেওয়া বক্তব্যে দেশটির সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ আমির হাতামি দাবি করেন, পারস্য উপসাগর ও ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, কয়েকটি ধাপে অভিযান পরিচালিত হয়েছে, তবে কৌশলগত কারণে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ওমান নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ দুকুম বন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন কর্মী আহত হয়েছেন। আরব সাগরের তীরে অবস্থিত দুকুম বন্দরটি একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অংশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয়দের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে। শহরের আকাশে ধোঁয়া দেখা গেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স জানিয়েছে, তারা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি দাবি করে, বৃহৎ পরিসরের বিমান অভিযানের মাধ্যমে ইরানের আকাশসীমায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি আগ্রাসী পদক্ষেপ নেয়, যুক্তরাষ্ট্রও শক্ত প্রতিক্রিয়া জানাবে।
ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম রাজধানী তেহরানেও বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। হামলা ও পাল্টা হামলার এই ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে বলা হচ্ছে।