খামেনিকে হত্যা করায় ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানালেন রেজা পাহলভী
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশটির নির্বাসিত সাবেক যুবরাজ রেজা শাহ পাহলভী। ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা এক নিবন্ধে তিনি এই পরিবর্তনকে ইরানের জনগণের জন্য স্বাধীনতার সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
নিবন্ধের শুরুতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান পাহলভী। সম্প্রতি ট্রাম্প ইরানিদের উদ্দেশে বলেন, তাদের স্বাধীনতার সময় এসে গেছে।
রেজা পাহলভীর মতে, গত প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে সংঘাত উসকে দিয়েছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে তার দাবি, এই শাসনব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে দেশের অভ্যন্তরে। বিশেষ করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় বহু প্রতিবাদকারী নিহত হওয়ার ঘটনাকে তিনি অমানবিক হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে পাহলভী একটি প্রস্তাবও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশটিতে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে তা গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদন করতে হবে। এরপর আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাসের মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত খুব কমই আগাম ঘোষণা দিয়ে আসে। তবে এমন সময় আসে, যখন সাহস, নেতৃত্ব ও সংহতি একটি জাতির গতিপথ বদলে দিতে পারে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে পাহলভী পরিবার দেশের বাইরে অবস্থান করছে। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই নির্বাসিত নেতার প্রভাব কতটা হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ চলছে।