ইরানের নেতৃত্বে আলোচনায় যে পাঁচ নাম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর একাধিক ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রকাশের পর দেশটির পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, কে হতে পারেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা। খামেনির কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষিত উত্তরসূরি না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেবে ৮৮ জন জ্যেষ্ঠ আলেমের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচিত সংস্থা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস।
রবিবার ১ মার্চ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বিশ্লেষণে সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থীর নাম উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় মর্যাদা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থনই এ ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হতে পারে।
সম্ভাব্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন খামেনির দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনি। বয়স ৫৬ বছর। তাকে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস আইআরজিসি ও বাসিজ বাহিনীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়। তবে শিয়া ধর্মীয় কাঠামোয় বংশানুক্রমিক ক্ষমতা হস্তান্তর সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি তিনি উচ্চপদস্থ আলেম নন এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদ নেই।
আলিরেজা আরাফি তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত হলেও প্রতিষ্ঠিত আলেম হিসেবে পরিচিত। বয়স ৬৭ বছর। তিনি বর্তমানে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের উপ চেয়ারম্যান এবং অতীতে প্রভাবশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। ইরানের সেমিনারি ব্যবস্থার প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাকে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখা হয় না এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ততটা ঘনিষ্ঠ নয় বলে ধারণা করা হয়।
মোহাম্মদ মাহদি মিরবাঘেরি, বয়স ৬০ বছর, অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্য এবং কট্টরপন্থী আলেম হিসেবে পরিচিত। তাকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের রক্ষণশীল অংশের প্রতিনিধি হিসেবে দেখা হয়। তিনি পশ্চিমবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত এবং বর্তমানে কুমে অবস্থিত ইসলামিক সায়েন্সেস একাডেমির প্রধান।
হাসান খোমেনি, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি। বয়স ৫০ বছর। পারিবারিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বৈধতার কারণে তার নাম আলোচনায় রয়েছে। তিনি খোমেনির মাজারের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তিনি কোনো সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেননি এবং নিরাপত্তা কাঠামোয় তার প্রভাব সীমিত বলে মনে করা হয়। তাকে তুলনামূলকভাবে কম কট্টরপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
হাশেম হোসেইনি বুশেহরি, বয়স ৬০ বছর, অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের প্রথম উপ চেয়ারম্যান। তিনি উত্তরাধিকার প্রক্রিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং খামেনির আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। তবে জাতীয় রাজনীতিতে তার প্রোফাইল তুলনামূলকভাবে কম এবং আইআরজিসির সঙ্গে তার সম্পর্ক কতটা দৃঢ়, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই।
সব মিলিয়ে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্ধারণে ক্ষমতাকাঠামোর ভেতরের সমঝোতা, ধর্মীয় মর্যাদা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থনই প্রধান ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য নজর থাকবে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের বৈঠকের দিকে, যা ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।