আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা পাকিস্তানের, পরিস্থিতি ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ বলছেন আসিফ
আফগানিস্তানের ভেতরে কয়েক ঘণ্টা ধরে আন্তঃসীমান্ত হামলা চালানোর পরও নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে পাকিস্তান। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আফগান ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ পরিস্থিতিকে সরাসরি উন্মুক্ত যুদ্ধে রূপ নেওয়া সংঘাত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মধ্যকার উত্তেজনা এখন প্রকাশ্য সামরিক মোকাবিলায় পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের হামলার পর আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন এলাকায় জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সীমান্তজুড়ে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি ও পাল্টাপাল্টি আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশি গণমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি বলেন, আফগান তালেবান প্রশাসন আন্তর্জাতিক আইন ও দোহা চুক্তির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আচরণ না করা পর্যন্ত এই সংঘাত থামবে না। তিনি অভিযোগ করেন, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বন্ধ করতে হবে এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার সংঘাত নিরসনে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুই দেশের সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানই কাম্য এবং সংলাপের পথ খোলা রাখা উচিত।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে কাবুলে প্রথম বিমান হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। জবাবে আফগান বাহিনী বিমানবিধ্বংসী গোলাবর্ষণ করে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, কাবুল ছাড়াও কান্দাহার ও পাক্তিয়া প্রদেশে তালেবান সংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, অভিযানে ১৩৩ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়েছেন। তবে এসব সংখ্যার স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।
দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা জোরালো হয়ে উঠেছে। সংঘাতের এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।