ইরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নাগরিকদের ইসরায়েল ছাড়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কার মধ্যে নিজ নাগরিকদের অবিলম্বে ইসরায়েল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশটিতে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দিয়েছে ওয়াশিংটন।
২৭ ফেব্রুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এ নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যতদিন বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু রয়েছে, সে সময়ের মধ্যেই নাগরিকদের ইসরায়েল ছাড়ার পরিকল্পনা করতে হবে।
এর একদিন আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তৃতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা থেকে কোনো অগ্রগতি আসেনি। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে।
ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে জানান, যারা দেশ ছাড়তে চান তারা যেন বিলম্ব না করেন। দূতাবাসের অভ্যন্তরীণ বার্তায় তিনি দ্রুত টিকিট সংগ্রহ করে ইসরায়েল ত্যাগের পরামর্শ দেন এবং প্রয়োজনে অন্য দেশে গিয়েও সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করেন।
এদিকে জেনেভা বৈঠকের পর ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জরুরি ভিত্তিতে ওয়াশিংটনে যান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী এই কূটনীতিকের লক্ষ্য, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আগে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখা। জানা গেছে, তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
কূটনৈতিক মহলের ধারণা, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেনি। এমন অবস্থায় সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আলোচনার ধারাবাহিকতা ভেঙে যেতে পারে।
পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এ সতর্কবার্তা আঞ্চলিক অস্থিরতার ইঙ্গিত বহন করছে। উত্তেজনার এ সময়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকুক—এমন প্রত্যাশাই করছে আন্তর্জাতিক মহল।