রোজার বাজারে স্বস্তি, আলু-পেঁয়াজসহ সবজির দামে উল্লেখযোগ্য কমতি
রোজা শুরুর আগে বাজারে যে মূল্যচাপ তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে আলু, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজার আগে একসঙ্গে বেশি কেনাকাটার কারণে চাহিদা বেড়েছিল। এখন সেই চাপ কমে আসায় দামও স্বাভাবিক হচ্ছে।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল অন্তত ৫ টাকা বেশি। পেঁয়াজের দাম নেমে এসেছে কেজিতে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২০ টাকা কম।
রোজাসংশ্লিষ্ট পণ্যেও স্বস্তি ফিরেছে। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, যা আগে ছিল ১০০ টাকা পর্যন্ত। বড় লেবু এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। শসা কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। মুলা, গাজর, পেঁপে, ফুলকপি ও বাঁধাকপির দামও ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। বিক্রেতারা জানান, বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি অন্তত ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
রামপুরা বাজারের এক বিক্রেতা জানান, স্কুল-কলেজে ছুটি ও অনেকের ঢাকার বাইরে চলে যাওয়ার কারণে ক্রেতা কমে গেছে। চাহিদা কম থাকায় দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
মুদি পণ্যেও আংশিক স্বস্তি দেখা গেছে। ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। খোলা পাম তেলের দাম লিটারে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, যা কিছুটা কমেছে। খোলা চিনি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাংস ও ডিমের বাজারেও কমতি লক্ষ্য করা গেছে। ব্রয়লার মুরগি ১৬৫ থেকে ১৮০ টাকায়, সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিমের ডজন ১১০ থেকে ১১৫ টাকার মধ্যে।
ব্যবসায়ীদের মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে এবং আগামী সপ্তাহে আরও কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে। রোজার সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে এ স্বস্তি ভোক্তাদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে।