পাকিস্তান-আফগানিস্তান উত্তেজনা, সামরিক শক্তিতে বড় ব্যবধান
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার পর পাকিস্তান প্রকাশ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছে। সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন এলাকায় সামরিক অভিযান ও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের দাবি, এসব অভিযানে বহু আফগান তালেবান সদস্য হতাহত হয়েছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সামরিক সক্ষমতার তুলনামূলক চিত্র সামনে এসেছে। বৈশ্বিক সামরিক শক্তিমত্তা সূচক অনুযায়ী ২০২৬ সালে পাকিস্তান ১৪৫ দেশের মধ্যে ১৪তম অবস্থানে রয়েছে। আফগানিস্তানের অবস্থান ১২১তম। পাওয়ার ইনডেক্স স্কোরে পাকিস্তানের স্কোর ০ দশমিক ২৬২৬, যেখানে আফগানিস্তানের ২ দশমিক ৭৩৪২। সাধারণত কম স্কোর বেশি শক্তিমত্তার ইঙ্গিত দেয়।
জনসংখ্যা ও সামরিক জনবলে পাকিস্তান স্পষ্টভাবে এগিয়ে। পাকিস্তানের জনসংখ্যা প্রায় ২৫ কোটির বেশি, আফগানিস্তানের প্রায় ৪ কোটির কিছু বেশি। সক্রিয় সামরিক সদস্য পাকিস্তানে প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার, আফগানিস্তানে প্রায় ৭৫ হাজার। পাকিস্তানের উল্লেখযোগ্য রিজার্ভ ও আধাসামরিক বাহিনী রয়েছে, যা আফগানিস্তানের তুলনায় বহুগুণ বেশি।
প্রতিরক্ষা বাজেটেও বড় পার্থক্য রয়েছে। পাকিস্তান বছরে প্রায় ৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষায় ব্যয় করে। আফগানিস্তানের বাজেট প্রায় ১৪৫ মিলিয়ন ডলার। অর্থনৈতিক সক্ষমতার দিক থেকেও পাকিস্তান এগিয়ে, তাদের ক্রয়ক্ষমতা আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি।
বিমান শক্তিতে ব্যবধান সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। পাকিস্তানের মোট সামরিক বিমান এক হাজারের বেশি, যার মধ্যে শতাধিক ফাইটার জেট ও আক্রমণাত্মক বিমান রয়েছে। আফগানিস্তানের বিমান সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত এবং ফাইটার জেট নেই। ট্যাংক, আর্টিলারি ও সাঁজোয়া যানেও পাকিস্তান বহুগুণ এগিয়ে।
নৌ সক্ষমতার ক্ষেত্রেও আফগানিস্তান পিছিয়ে, কারণ দেশটি স্থলবেষ্টিত। পাকিস্তানের নৌবাহিনীতে যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন ও ফ্রিগেট রয়েছে। অবকাঠামো, বিমানবন্দর, সড়ক নেটওয়ার্ক ও জ্বালানি সম্পদেও পাকিস্তানের অবস্থান শক্তিশালী।
ভৌগোলিকভাবে দুই দেশের মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনার কেন্দ্র।
সামগ্রিকভাবে প্রচলিত সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও অবকাঠামোগত সক্ষমতায় পাকিস্তান আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি সংগঠিত ও সক্ষম বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচকে প্রতিফলিত হয়েছে। তবে যে কোনো সংঘাতের মানবিক ও আঞ্চলিক প্রভাব গভীর হতে পারে। উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।