ডুরান্ড লাইনে তীব্র সংঘর্ষ, পাকিস্তানি অবস্থানে আফগান বাহিনীর হামলার দাবি
পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান। আফগান কর্মকর্তাদের দাবি, বৃহস্পতিবার পরিচালিত এ হামলায় কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন।
পাকিস্তান দ্রুত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশসংলগ্ন সীমান্তে আফগান বাহিনী বিনা উসকানিতে গুলি চালিয়েছে এবং এর জবাব দ্রুত ও কার্যকরভাবে দেওয়া হবে।
আফগানিস্তানের একটি সামরিক কোরের গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ লড়াই শুরু হয়েছে।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক পোস্টে বলেন, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পুনরাবৃত্ত উসকানি ও সীমান্ত লঙ্ঘনের জবাবে ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন পাকিস্তানি সামরিক অবস্থান ও স্থাপনায় ব্যাপক আক্রমণ চালানো হয়েছে। তার দাবি, আফগান বাহিনী অসংখ্য সৈন্য হত্যা করেছে, কয়েকজনকে জীবিত আটক করেছে এবং অন্তত ১৫টি চৌকি দখলে নিয়েছে।
ডুরান্ড লাইন প্রায় দুই হাজার ছয়শো এগারো কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত, যা আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় না। দীর্ঘদিন ধরেই এ সীমান্ত ঘিরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এর আগে গত রোববার পাকিস্তান নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে হামলা চালায়। আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মিশন জানিয়েছে, ওই হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নিহত হন। তবে নিহতের সংখ্যা নিয়ে উভয় পক্ষের দাবি ভিন্ন। ইসলামাবাদের মতে, হামলায় ৮০ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন, আর কাবুলের দাবি অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ১৮।
পাল্টাপাল্টি হামলা ও ভিন্নমুখী তথ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সীমান্ত অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক সংলাপই এখন দুই দেশের জন্য উত্তেজনা প্রশমনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।