টানা দশম বছরে জাপানে জন্মহার কমলো, জনসংখ্যা সংকট গভীরতর
জাপানে ২০২৫ সালে টানা দশম বছরের মতো জন্মসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে বলে সরকারের প্রাথমিক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। এতে দেশটির সামনে বিদ্যমান জনসংখ্যাগত ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
টোকিও থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে ২০২৫ সালে জাপানে মোট ৭ লাখ ৫ হাজার ৮০৯ জন শিশুর জন্ম হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা ২ দশমিক ১ শতাংশ কম।
এই পরিসংখ্যানে জাপানি নাগরিকদের সন্তান, জাপানে বসবাসরত বিদেশিদের সন্তান এবং বিদেশে জন্ম নেওয়া জাপানি নাগরিকদের সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানে জন্মহার দীর্ঘদিন ধরেই নিম্নমুখী। জনসংখ্যা ক্রমাগত কমে যাওয়ায় শ্রমশক্তির ঘাটতি, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয়ের চাপ বৃদ্ধি এবং করদাতা কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা হ্রাসের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এর প্রভাব দেশের সরকারি ঋণ পরিস্থিতিতেও পড়ছে। প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে জাপানের ঋণ ও জিডিপি অনুপাত ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সাম্প্রতিক পার্লামেন্ট অধিবেশনে হ্রাসমান জন্মহারকে নীরব জাতীয় জরুরি অবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, সঙ্কুচিত জনসংখ্যা ধীরে ধীরে দেশের সামগ্রিক প্রাণশক্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
জন্মহার বৃদ্ধিতে ধারাবাহিকভাবে নীতি ঘোষণা করা হলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি এখনো সীমিত। এ প্রেক্ষাপটে অভিবাসন বৃদ্ধিকে সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে দেখছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তবে অভিবাসন ইস্যুতে রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। এলডিপি নেতৃত্বাধীন সরকার আগাম নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থানের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
জনসংখ্যা হ্রাস শুধু পরিসংখ্যানের বিষয় নয়, এটি অর্থনীতি, সামাজিক কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। টেকসই সমাধান খুঁজে পাওয়া এখন জাপানের নীতিনির্ধারকদের জন্য সময়োপযোগী এক বড় চ্যালেঞ্জ।