আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সামরিক অভিযান গাজাব লিল হক, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি
আফগানিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষের জেরে পাকিস্তান গাজাব লিল হক নামে সামরিক অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ। দেশটির দাবি, আফগান বাহিনীর অতর্কিত হামলার জবাবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে রূপ নিয়েছে।
শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি আলজাজিরা ও জিও টিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, তালেবান সরকারের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানি বাহিনী অভিযান শুরু করে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক গণমাধ্যমবিষয়ক মুখপাত্র মুশাররফ জাইদি জানান, ভোর ৩টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত পাল্টা হামলা অব্যাহত ছিল এবং আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
তার দাবি অনুযায়ী, কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে সামরিক স্থাপনায় হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, ২৭টি তালেবান চৌকি ধ্বংস এবং ৯টি দখল করা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি কোর সদর দপ্তর, তিনটি ব্রিগেড সদর দপ্তর, দুটি গোলাবারুদ ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, তিনটি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর ও দুটি সেক্টর সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ৮০টির বেশি ট্যাংক, কামান ও সাঁজোয়া যান ধ্বংসের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, পাকিস্তানি বিমান কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে বোমাবর্ষণ করেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক বার্তায় বলেন, এটি এখন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মধ্যে খোলা যুদ্ধ এবং যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বৃহৎ পরিসরে আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনা করছে আফগানিস্তান।
সীমান্ত উত্তেজনা দ্রুত বিস্তৃত আকার নেওয়ায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সংঘাতের এই বাস্তবতায় শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া এখন সময়ের বড় দাবি।