বাংলাদেশসহ ৪০ দেশের মুরগি ও ডিম আমদানি স্থগিত করল সৌদি আরব
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বাংলাদেশসহ ৪০টি দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানি সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে সৌদি আরব।
বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি সৌদি খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
গালফ নিউজের খবরে বলা হয়, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও মহামারি সংশ্লিষ্ট হালনাগাদ তথ্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। উচ্চমাত্রার বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তালিকা নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের পোলট্রি খাত সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশ থেকে খুব সীমিত পরিমাণে মুরগির মাংস রপ্তানি হয়। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, আজারবাইজান, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, তাইওয়ান, জিবুতি, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, ইরাক, ঘানা, ফিলিস্তিন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, কাজাখস্তান, ক্যামেরুন, দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়া, লাওস, লিবিয়া, মিয়ানমার, যুক্তরাজ্য, মিসর, মেক্সিকো, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, নাইজার, নাইজেরিয়া, ভারত, হংকং, জাপান, বুরকিনা ফাসো, সুদান, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া, আইভরি কোস্ট ও মন্টেনেগ্রো।
এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, বেলজিয়াম, ভুটান, পোল্যান্ড, টোগো, ডেনমার্ক, রোমানিয়া, জিম্বাবুয়ে, ফ্রান্স, ফিলিপাইন, কানাডা, মালয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া ও ডিআর কঙ্গোর নির্দিষ্ট অঞ্চল বা শহর থেকে আংশিক আমদানিতেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
তবে অনুমোদিত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করলে প্রক্রিয়াজাত মুরগি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। সংশ্লিষ্ট সরকারি সনদে নিশ্চিত করতে হবে যে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বার্ড ফ্লু ও নিউক্যাসল রোগের ভাইরাস সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে।
সৌদি আরব বছরে প্রায় ১০ কোটি ডলারের ডিম আমদানি করে থাকে। ওমান, নেদারল্যান্ডস, জর্ডান, তুরস্ক ও পাকিস্তান এ খাতে প্রধান সরবরাহকারী দেশ। মুরগির চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ সৌদি আরব নিজস্ব উৎপাদন থেকে পূরণ করে, বাকি অংশের বড় অংশ আসে ব্রাজিল থেকে।
বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রাণিসম্পদ খাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে এমন পদক্ষেপ এখন ক্রমশই বাড়ছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।