বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আশ্বাস
বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় চীনের পক্ষ থেকে বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।
বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দপ্তরে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সাক্ষাৎকালে এ আশ্বাস দেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। আঞ্চলিক, কৌশলগত ও ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সরকার আগ্রহী। চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার এবং বিভিন্ন বড় প্রকল্পে বিনিয়োগকারী দেশ উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতে বিনিয়োগ বাড়ানোর অনুরোধ জানান।
চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ হাজার চীনা নাগরিক কাজ করছেন। উন্নয়ন ও নিরাপত্তা একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে তিনি বিনিয়োগ পরিবেশ সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। তিনি নিরাপত্তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিতব্য ইন্টারন্যাশনাল অ্যালায়েন্স কমব্যাটিং টেলিকম অ্যান্ড সাইবার ফ্রড জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের অনুরোধ জানান রাষ্ট্রদূত। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব যথাযথ প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রশিক্ষণ সহযোগিতা বিষয়ক প্ল্যান অব অ্যাকশন অন ল এনফোর্সমেন্ট ট্রেইনিং কো-অপারেশন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ২০২৩ সালে শেষ হওয়ায় তা পুনর্বিবেচনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। সুবিধাজনক সময়ে চীন সফরের আগ্রহের কথাও তিনি রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা, সাইবার অপরাধ দমন, পুলিশ প্রশিক্ষণ, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে চীনা রাষ্ট্রদূত নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন। পাশাপাশি আগামী সেপ্টেম্বরে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা যত গভীর হবে, ততই শক্ত হবে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার ভিত্তি। বিনিয়োগ, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন একসঙ্গে এগোলে সম্পর্কও পাবে দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর রূপ।