বিদায় বেলায় গভর্নর আহসান এইচ মনসুর যা বললেন
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের দায়িত্বকাল শেষ হয়েছে বিক্ষোভপূর্ণ পরিবেশে। কর্মকর্তা কর্মচারীদের একাংশের প্রতিবাদ ও আল্টিমেটামের মধ্যে তিনি কার্যালয় ত্যাগ করেন।
বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে অফিস ছাড়ার পরপরই সরকার তার নিয়োগ বাতিল করে এবং নতুন গভর্নর হিসেবে ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেয়।
দুপুরে প্রতিবাদ সভার পর বেলা ২টায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন আহসান এইচ মনসুর। সেখানে তিনি বিক্ষোভকে স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকটি ব্যাংকের একীভূতকরণ, রাষ্ট্রীয় নীতি এবং রাজনৈতিক অর্থনীতিসংক্রান্ত বিষয় কোনো কর্মচারী সংগঠনের আলোচ্য নয়। এসব নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা সংশ্লিষ্টদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য ছিল গত দুই বছর ধরে অর্থ উত্তোলনে সমস্যায় থাকা প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর স্বার্থ সুরক্ষা করা। তার অভিযোগ, একটি কুচক্রী মহল মার্জার হওয়া ব্যাংকগুলোর পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যাতে সেগুলো পুনরায় আগের মালিকদের নিয়ন্ত্রণে ফিরে যেতে পারে।
পদত্যাগের দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, পদত্যাগ তার কাছে কোনো বিষয় নয়। তিনি চাকরি করতে নয়, সেবা দিতে এসেছেন। প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করতে পারেন, তবে সিদ্ধান্ত হবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। তিনি আরও বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় শৃঙ্খলা ও নিয়ম মানা অপরিহার্য, নিয়মের বাইরে কিছু গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনের কিছুক্ষণ পর গণমাধ্যমে নতুন গভর্নর নিয়োগের খবর প্রকাশিত হয়। এরপর বেলা ২টার দিকে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন ত্যাগ করেন। বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের বলেন, তিনি পদত্যাগ করেননি এবং তাকে অপসারণও করা হয়নি। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে নতুন নিয়োগের খবর দেখেই তিনি অফিস ছেড়েছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে এই পরিবর্তন দেশের আর্থিক খাতে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা, নীতিগত স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এখন নতুন নেতৃত্বের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ। পরিবর্তনের এই মুহূর্তে আর্থিক খাতে আস্থা ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।