মিয়ানমারে সামরিক জান্তার বিমান হামলায় নিহত ২৬, আহত অন্তত ১৯
মিয়ানমারের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সামরিক জান্তার পৃথক বিমান হামলায় অন্তত ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৯ জন।
বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানায় আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি।
খবরে বলা হয়, পশ্চিমাঞ্চলীয় আরাকান রাজ্যের পোনন্যাগুন শহরের ইয়োয়েঙ্গু গ্রামে চালানো বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ১৭ জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হন। গ্রামটি আরাকান রাজ্যের রাজধানী সিত্তে থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। ২০২৪ সালের মার্চে রাখাইনের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি ওই শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
পোনন্যাগুনের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সাগাইং অঞ্চলে পৃথক আরেকটি হামলায় দুই শিশুসহ ৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সামরিক বাহিনীর প্যারামোটর হামলায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
মিনমু শহরের এক বাসিন্দা জানান, স্থানীয়রা ইন্টারনেট সংযোগের জন্য স্টারলিংক ডিভাইস ব্যবহার করছিলেন এমন একটি স্থানে দুটি প্যারামোটর থেকে তিনটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটিতে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের পরবর্তী সহিংসতায় ৬ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থিতিশীলতা ও সংলাপের অভাব দীর্ঘায়িত হলে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।