বিশ্বনাথে রাজার খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন এমপি তাহসিনা রুশদীর লুনা
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় কৃষি ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে রাজার খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার দশঘর ইউনিয়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কাজের উদ্বোধন করেন সিলেট ২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন বিএডিসি সেচ বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম রুবী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএডিসি সেচ বিভাগের প্রকল্প পরিচালক প্রণজিৎ কুমার দেব, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. লিলু মিয়া এবং দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য লুনা বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির বিকল্প নেই। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে অতীতে খাল খনন কর্মসূচি চালু হয়েছিল, যা পরবর্তীতে নানা কারণে স্থবির হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে খাল ও নদী ভরাট এবং দখলের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে কৃষি ও পরিবেশে।
তিনি বলেন, খাল পুনঃখনন হলে সারা বছর পানি সংরক্ষণ সহজ হবে, অনাবাদি জমি আবাদযোগ্য হবে এবং কৃষকের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি নতুন করে গতি পাবে। ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনকালে ঘোষিত অঙ্গীকারে খাল খননকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে কৃষি ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
স্থানীয় জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমকে কেবল সরকারি উদ্যোগ হিসেবে না দেখে সবার যৌথ দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। জনসম্পৃক্ততা ও সামাজিক সচেতনতা থাকলে একটি অঞ্চল দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে।
নিজের বক্তব্যে তিনি সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করেন এবং বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরকে আধুনিক ও সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, রাজার খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে এলাকার কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং জলাবদ্ধতার সমস্যা লাঘব হবে। এতে স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকসই কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় খাল পুনঃখননের মতো উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের প্রকল্প গ্রামীণ অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রকৃতি ও মানুষের সহাবস্থানের এই প্রয়াস সফল হলে শুধু একটি খাল নয়, জেগে উঠবে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। কৃষকের মাঠে ফিরবে প্রাণ, আর পানির প্রবাহের সঙ্গে বইবে আশার স্রোত।