নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
নানামুখি রাজনীতির ঊর্ধ্বে যে এক বিশাল আকাশ থাকে, যেখানে থাকে কেবল মানবিকতা আর সৌজন্যবোধের বসতি। সেই সত্যেরই যেন এক ঝলক দেখা গেলো বিশ্বনাথ পৌরসভার রামধানা গ্রামে। বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নি খোঁ জ এম ইলিয়াস আলীর পৈত্রিক বাড়ীতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায়) ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এম ইলিয়াস আলীর অসুস্থ বয়োবৃদ্ধ মা সূর্যবান বিবিকে দেখতে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীসহ তিনি সেখানে যান।
৯০ বছরের অশীতিপর বৃদ্ধা সূর্যবান বিবি। নিখোঁজ ছেলের ফেরার পথ চেয়ে প্রহর গুনতে গুনতে যার চোখের জল প্রায় শুকিয়ে গেছে। পারিবারিক একটি সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টার গাড়ী যখন এম ইলিয়াস আলীর বাড়িতে, বার্ধক্য আর অসুস্থতায় শয্যাশায়ী তাঁর মা তখন গভীর ঘুমে মগ্ন। যে কারণে তাঁর সাথে বাড়ীতে আগত উপদেষ্টার সরাসরি সাক্ষাৎ সম্ভব হয়নি। তবে, উপদেষ্টা তাঁর খোঁজখবর নেন এবং বেশকিছু সময় তাদের বাড়িতে অবস্থান করেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের অকস্মাৎ এই আগমনের খবর আগে থেকে জানা ছিল না ইলিয়াস পরিবারের সদস্যদের। নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন কর্মকান্ড ও জনসাধারণের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে কর্মব্যস্ততার কারণে বাড়িতে ছিলেন না সিলেট-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য, ইলিয়াসপত্মী তাহসিনা রুশদীর লুনা। একই সময়ে ইলিয়াস আলীর ছোট ভাই এম আসকির আলী ছিলেন ওসমানীনগরে এবং বড় ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস অর্ণব ছিলেন ঢাকাতে।
তবে, তাদের অনুপস্থিতি থাকলেও ইলিয়াস আলীর রামধানার সেই বাড়ির চিরাচরিত আতিথেয়তায় কোনো কমতি ছিল না। বাড়ির লোকজন আন্তরিকতার সাথে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে আতিথেয়তা-আপ্যায়ন করেন।
বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরের সাধারণ মানুষ তাদের প্রিয় নেতা এম ইলিয়াস আলীর গ্রামের বাড়ীতে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার হঠাৎ আগমন এবং তাঁকে ঘিরে ইলিয়াস আলীর বাড়ির লোকজনের তাৎক্ষণিক আন্তরিক আতিথেয়তাকে কেবল একটি প্রটোকল বা আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখছেন না। বরং তারা একে দেখছেন মানবিক ও ইতিবাচক সহাবস্থানের রাজনীতি হিসেবে।