পিলখানা ট্র্যাজেডি দিবস আজ
বিডিআর বিদ্রোহ ও পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭তম বার্ষিকী আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি। ২০০৯ সালের এই দিনে তৎকালীন বিডিআরের বিপথগামী সদস্যরা দাবিদাওয়ার আড়ালে পিলখানা সদর দপ্তরে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়।
২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনায় তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা এবং নারী ও শিশুসহ আরও ১৭ জন নিহত হন। দেশের ইতিহাসে এটি অন্যতম ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত।
হত্যাকাণ্ডের পর বাহিনীর নিজস্ব আইনে এবং ফৌজদারি মামলায় বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর নিম্ন আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৪২৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। পরে ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্ট আপিলের রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়, কয়েকজনের সাজা কমানো হয় এবং কিছু আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক আসামির সাজা বহাল, কমানো বা বাতিল হয়েছে।
বিদ্রোহের ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের মামলা পরবর্তীতে নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তরিত হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিভাগীয় মামলায় অনেককে চাকরিচ্যুত ও শাস্তি দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত শুরু করে। এ লক্ষ্যে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এবং ঘটনার পেছনের কারণ ও প্রেক্ষাপট নিয়ে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় পিলখানা সদর দপ্তরে বার্ষিক দরবার শুরু হয়। মহাপরিচালকের বক্তব্য চলাকালে বিদ্রোহী সদস্যরা অতর্কিত হামলা চালায়। সেনা কর্মকর্তাদের ওপর হামলা, জিম্মি করা এবং পরে হত্যার ঘটনা ঘটে। ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বিদ্রোহের অবসান হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি পিলখানার ভেতরে একাধিক গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দিনটি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। সকালে বনানীর সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং বিজিবি মহাপরিচালক শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বিকালে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে।
প্রতি বছর এ দিনটি শ্রদ্ধা, শোক ও স্মরণে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হয়।