ঈদের নামাজে জাতীয় ঈদগাহে যেতে বাধা, অভিযোগ রাষ্ট্রপতির
পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে যেতে তাকে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে এ ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গভবনে বেসরকারি সংবাদমাধ্যম দৈনিক কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারি সাক্ষাৎকারের প্রথম অংশ প্রকাশিত হয় এবং মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি শেষ অংশ প্রকাশিত হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাকে কার্যত বঙ্গভবনের ভেতর সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্রপতির জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ একটি প্রচলিত রীতি হিসেবে চলে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বিভাগের মাধ্যমে তাকে জানানো হয়েছিল যে তিনি জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজে অংশ নিতে পারবেন না।
তিনি আরও বলেন, বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান দীর্ঘদিনের প্রথা অনুযায়ী বঙ্গভবনে আয়োজন করা হয়ে থাকে। এসব আয়োজনে প্রধান উপদেষ্টাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি উপস্থিত হননি বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। যদিও এ বিষয়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই, তবে এটি সৌজন্যের বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রসঙ্গত, প্রায় দেড় বছর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের মাধ্যমে চলতি মাসে বিএনপি সরকার গঠন করে। এর মধ্য দিয়ে ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের মেয়াদ শেষ হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে সাংবিধানিক ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি অনেক ক্ষেত্রে কার্যত আড়ালে ছিলেন। সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার কথাও উঠে এসেছে।
রাষ্ট্রপতির এ বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদকে ঘিরে যেকোনো প্রশ্নই গুরুত্বের দাবি রাখে। পারস্পরিক সম্মান, সংলাপ ও প্রাতিষ্ঠানিক সৌজন্য রক্ষা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করে, আর সেই সংস্কৃতি অটুট থাকলেই রাষ্ট্রীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় হয়।