ঈদের আগেই বগুড়া ও দিনাজপুরে শুরু ফ্যামিলি কার্ড পাইলট, বছরে ব্যয় ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি
নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। আসন্ন ঈদের আগেই বগুড়া ও দিনাজপুরে পরীক্ষামূলকভাবে এই কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রোববার ২২ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রত্যেক সুবিধাভোগী পরিবারকে মাসে ২ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হতে পারে। সম্ভাব্য ৫০ লাখ সুবিধাভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে বছরে এ কর্মসূচিতে ব্যয় হবে ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ফ্যামিলি কার্ডের কর্মকৌশল প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহেই তা চূড়ান্ত হতে পারে। অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর সঙ্গে নতুন উদ্যোগটির সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রথম ধাপে বগুড়া ও দিনাজপুর জেলার আটটি উপজেলাকে বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে পাইলট কার্যক্রম শুরু হবে বগুড়ার গাবতলী ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায়। সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সুবিধাভোগী নির্ধারণে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ খানা জরিপকে ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হচ্ছে।
অর্থসংস্থানের বিষয়ে জানা গেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি থেকে প্রায় ১ হাজার ২০৩ কোটি টাকা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল ওম্যান ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচি থেকে ২ হাজার ২২৩ কোটি টাকা এবং বয়স্ক, বিধবা ও মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি থেকে আরও প্রায় ২ হাজার ১২১ কোটি টাকা সমন্বয় করা হতে পারে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কার্যকর বাস্তবায়নই হবে এ উদ্যোগের মূল চ্যালেঞ্জ। স্বচ্ছতা ও সঠিক বাছাই নিশ্চিত করতে পারলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।