সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি পদে সপ্তমবার মুকতাবিস-উন-নূর, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বার্তা
সাংবাদিকতা কেবল সংবাদ পরিবেশনের একটি পেশা নয়; এটি সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্ব। গণমাধ্যমের ভূমিকা সমাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং গণতান্ত্রিক চর্চা সুদৃঢ় করতে সহায়ক। এই প্রেক্ষাপটে সিলেট অঞ্চলের সাংবাদিকতা দীর্ঘদিন ধরে একটি ঐতিহ্য, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করে আসছে, যার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত সিলেট প্রেসক্লাব।
এই ধারাবাহিকতায় সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও সম্পাদক মুকতাবিস-উন-নূর। সপ্তমবারের মতো তাঁর এই নির্বাচিত হওয়া সিলেটের সাংবাদিক সমাজের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘ পেশাগত জীবনে তিনি সংবাদ সংগ্রহ ও সম্পাদনার পাশাপাশি সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চায় ভূমিকা রেখেছেন।
পূর্বে সভাপতির দায়িত্ব পালনের সময় সিলেট প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের পেশাগত মতবিনিময়, নীতি-আলোচনা ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। সেই সময়ে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে পেশাগত সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্মান বজায় ছিল, যা সাংবাদিকতার গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।
সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকতা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। ডিজিটাল মাধ্যমে ভুয়া তথ্যের বিস্তার, পেশাগত নিরাপত্তা, আইনগত জটিলতা এবং বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক চাপ সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও নৈতিকতার জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে পেশাগত ঐক্যের অভাব এবং অপেশাদার চর্চা সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতার নীতিমালা, প্রচলিত আইন ও পেশাগত আচরণবিধি মেনে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। স্বচ্ছতা, তথ্য যাচাই, ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থাপন এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই গণমাধ্যমের মূল ভিত্তি। প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে এই মূল্যবোধগুলো জোরদার করা গেলে সাংবাদিক সমাজের পেশাগত পরিবেশ আরও সুসংহত হতে পারে।
মুকতাবিস-উন-নূরের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, সম্পাদনা দক্ষতা এবং সংগঠক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর নেতৃত্বে সিলেট প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, নিরাপত্তা এবং নৈতিক মানদণ্ড রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে-এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে রয়েছে।
সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে তাঁর পুনর্নির্বাচন একটি সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব পুনরুজ্জীবনের সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা, জনআস্থা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা আরও সুদৃঢ় হবে-এমন প্রত্যাশাই এখন সাংবাদিক সমাজ ও পাঠকদের।