তারাবির মাসে ক্যারাম ও টিভি বন্ধের বক্তব্য ঘিরে কুষ্টিয়ায় আলোচনা
কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি বাজারে রমজান মাসে ক্যারাম খেলা ও টেলিভিশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার ২২ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেন, এ ধরনের কোনো নির্দেশনা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভাইরাল ভিডিওটি গত শুক্রবার ২০ ডিসেম্বরের। সেদিন কুষ্টিয়া ৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বাজার পরিদর্শনে যান। তার সঙ্গে ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার আওতাধীন পাটিকাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মসিউল আজম, যিনি সেদিন সাদাপোশাকে ছিলেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি চায়ের দোকানে ক্যারাম খেলা চলতে দেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দোকানিকে উদ্দেশ করে কথা বলেন। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, তারাবির সময় এক মাস কোনো ক্যারাম বা টেলিভিশন চলবে না বলে বাজার কমিটিকে জানানো হয়েছিল। তিনি ক্যারাম বোর্ডের দিকে এগিয়ে যান বলেও ভিডিওতে দেখা যায়।
এ সময় পাশে থাকা সংসদ সদস্য আমির হামজাকে রমজান মাসের পবিত্রতা ও নামাজের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা বলতে শোনা যায়।
ঘটনার পরদিন রাতের দিকে বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকান বন্ধ রয়েছে, কিছু দোকান আংশিক খোলা। একটি চায়ের দোকানে টেলিভিশন চালু থাকলেও ক্যারাম খেলা বন্ধ ছিল। সংশ্লিষ্ট দোকানদার এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনীহা জানান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কাশেম বলেন, হঠাৎ করে বিনোদনমূলক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া সমীচীন নয়। তরুণদের খেলাধুলা ও বিনোদনের প্রয়োজন রয়েছে। তবে অর্থের বিনিময়ে ক্যারাম খেলা নিরুৎসাহিত করা উচিত বলে মত দেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মসিউল আজম বলেন, এটি ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়। তিনি দাবি করেন, ওপর মহলের নির্দেশের ভিত্তিতেই এ কথা বলেছেন। তবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, এ ধরনের কোনো নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়নি।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক পুলিশি নির্দেশ নয়। রোজার দিনে দোকান খোলা বা বন্ধ রাখা আইনি বিষয় নয়, বরং সামাজিক ও ব্যক্তিগত বিবেচনার বিষয়। এ কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়ার প্রশ্নও আসে না।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ ধর্মীয় আবহে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান হিসেবে বিষয়টি দেখছেন, আবার কেউ ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংবেদনশীল বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণ ও পারস্পরিক সহনশীলতাই পারে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে।