ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগপত্র জমা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
শনিবার ২২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তিনি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন।
উপাচার্যের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফিরোজ গণমাধ্যমকে জানান, সকালে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। পদত্যাগপত্র গৃহীত হলে পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক কারণ উল্লেখ করে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে অব্যাহতির বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। ওই বছরের ২৭ আগস্ট ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নির্বাচনের দুই দিন আগে, ১০ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন।
১৯৬৬ সালে জন্মগ্রহণকারী অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ইনস্টিটিউট অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট থেকে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। ১৯৯৬ সালে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস, সোয়ানসি থেকে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস, এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্টডক গবেষণা সম্পন্ন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপ উপাচার্য হিসেবেও কাজ করেছেন। এছাড়া ইউএনডিপি, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন সময়ে জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, ইউএসএআইডি ও বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে এ পরিবর্তনের ফলে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের ধারাবাহিকতা ও একাডেমিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। জ্ঞানচর্চা ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা রক্ষাই হোক আগামী দিনের প্রধান অঙ্গীকার।