৪০ শতাংশের কম ভোটে জয় পেলেন ১৫ সংসদ সদস্য
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন প্রার্থী নিজ নিজ আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের ৪০ শতাংশের কম পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
রোববার ২২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত নির্বাচনী ফল বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সার্বিক ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তবে বিভিন্ন আসনে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে তুলনামূলক কম ভোট পেয়েও কয়েকজন প্রার্থী জয়লাভ করেন।
ময়মনসিংহ ১০ গফরগাঁও আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান ৭৪ হাজার ৬৩৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যা মোট প্রদত্ত ভোটের ৩৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ। একই জেলার ময়মনসিংহ ৬ আসনে জামায়াতের কামরুল হাসান ৭৭ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে ৩৩ দশমিক ০৩ শতাংশ ভোটে বিজয়ী হন।
মাদারীপুর ২ সদর ও রাজৈর আসনে বিএনপির জাহান্দার আলী জাহান ৬১ হাজার ৭৪৪ ভোট পেয়ে ৩২ দশমিক ৩৮ শতাংশ ভোটে জয় পান। গোপালগঞ্জ ১ আসনে বিএনপির মো. সেলিমুজ্জামান ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট নিয়ে ৩৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ ভোটে নির্বাচিত হন। গোপালগঞ্জ ২ আসনে ডা. কে এম বাবর ৪০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
কিশোরগঞ্জ ৫ বাজিতপুর ও নিকলী আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ৭৯ হাজার ৬০৪ ভোট নিয়ে ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ ভোটে নির্বাচিত হন। নাটোর ১ আসনে বিএনপির ফারজানা শারমিন পুতুল ১ লাখ ২৭ হাজার ২৬ ভোট পেয়ে ৩৮ দশমিক ১২ শতাংশ ভোটে জয় পান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৫ আসনে বিএনপির এম এ মান্নান ৮৫ হাজার ৭৬৯ ভোট পেয়ে ৩৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ ভোটে নির্বাচিত হন। কুমিল্লা ২ হোমনা ও তিতাস আসনে বিএনপির সেলিম ভূঁইয়া ৭৭ হাজার ৩৭ ভোট পেয়ে ৩৮ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোটে জয়লাভ করেন।
কুড়িগ্রাম ১ আসনে জামায়াতের আনোয়ারুল ইসলাম ১ লাখ ৪১ হাজার ৯০ ভোট পেয়ে ৩৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভোটে নির্বাচিত হন। দিনাজপুর ৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ জেড এম রেজওয়ানুল হক ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪ ভোট পেয়ে ৩৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ ভোটে জয় পান।
মাদারীপুর ১ শিবচর আসনে খেলাফত মজলিসের সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট পেয়ে ৩৬ দশমিক ২৬ শতাংশ ভোটে নির্বাচিত হন। সিলেট ৫ জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট আসনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল হাসান প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোটে জয়লাভ করেন।
চাঁদপুর ৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নান ৭৪ হাজার ১৭৫ ভোট নিয়ে ৩৫ শতাংশ ভোটে নির্বাচিত হন। চট্টগ্রাম ১৬ আসনে জামায়াতের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ৯৩ হাজার ১৬৭ ভোট পেয়ে ৩৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভোটে জয়লাভ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বহুপ্রার্থী অংশগ্রহণ এবং ভোটের বিভাজনের কারণে তুলনামূলক কম ভোট পেয়ে জয়ী হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীই বিজয়ী হন, যদিও তা মোট ভোটের অর্ধেকের কম হতে পারে।
নির্বাচনী ফলাফল দেখিয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে ভোটের ব্যবধান অনেক ক্ষেত্রে ছিল সামান্য। এতে স্পষ্ট হয়, ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে সংসদের প্রতিনিধিত্ব। গণতন্ত্রের শক্তি এখানেই, যেখানে প্রতিটি ভোট ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বাস্তবতা গড়ে তোলে।