ইয়েমেন ও সুদান ইস্যুতে আমিরাতকে সৌদি যুবরাজের চিঠি
ইয়েমেন ও সুদানের চলমান পরিস্থিতি ঘিরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
রোববার ২২ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
মিডল ইস্ট আই একাধিক মার্কিন ও পশ্চিমা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তাহনুন বিন জায়েদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে দুই সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে আবুধাবির নীতিগত অবস্থান নিয়ে সৌদি পক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহ আগে পাঠানো চিঠিতে সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধ এবং প্রতিবেশী ইয়েমেনে আমিরাতের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে সৌদি যুবরাজের ভাই ও দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমানের মাধ্যমে কূটনৈতিক মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে ইয়েমেন প্রসঙ্গে সৌদি আরবের নিরাপত্তা বিবেচনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দক্ষিণ সীমান্তের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইয়েমেনে সৌদি সামরিক সম্পৃক্ততাকে প্রয়োজনীয় বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। সৌদি আরব ইয়েমেনকে তার কৌশলগত প্রভাববলয়ের অংশ হিসেবে দেখে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে সৌদি আরব কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, আঞ্চলিক রাজনীতিতে দুই দেশের পারস্পরিক সমন্বয় ও কৌশলগত অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ইয়েমেন ও সুদানের মতো সংকটাপন্ন অঞ্চলে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদার হলে সংঘাত নিরসনে নতুন পথ উন্মোচিত হতে পারে। শান্তি ও স্থিতিশীলতাই শেষ পর্যন্ত পুরো অঞ্চলের জনগণের জন্য সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।