সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকা থেকে প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে বাদ দিতে আইন ভাবনায় ব্রিটিশ সরকার
কুখ্যাত দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন–এর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ ঘিরে সমালোচনার মুখে পড়া ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু–কে সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকা থেকে অপসারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
বর্তমানে অ্যান্ড্রু উত্তরাধিকার তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছেন। তবে সরকার আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী লুক পোলার্ড মন্তব্য করেছেন, তদন্তের ফলাফল যাই হোক, এমন পদক্ষেপ সঠিক সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে তিনি এটিও বলেছেন, চলমান পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে।
অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। সরকারি দায়িত্ব পালনকালে অসদাচরণের অভিযোগে বৃহস্পতিবার তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং প্রায় ১১ ঘণ্টা পর ছেড়ে দেওয়া হয়। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তিনি বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সরকার বাকিংহাম প্যালেসের সঙ্গে সমন্বয় করে অ্যান্ড্রুকে সিংহাসনের নিকটবর্তী অবস্থান থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কাজ করছে। পার্লামেন্টে এ সংক্রান্ত আইন উত্থাপিত হলে তা সর্বদলীয় সমর্থন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অ্যান্ড্রু দীর্ঘদিন উইন্ডসরের ৩০ কক্ষবিশিষ্ট রয়্যাল লজে বসবাস করেছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। টেমস ভ্যালি পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে।
বিরোধী লিবারেল ডেমোক্র্যাট ও এসএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের আইনপ্রণেতারা তাকে উত্তরাধিকার তালিকা থেকে সরানোর পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন। তবে লেবার পার্টির রাজতন্ত্রবিরোধী কয়েকজন সাংসদ মনে করছেন, তালিকায় অষ্টম স্থানে থাকায় বাস্তবে তার সিংহাসনে আরোহনের সম্ভাবনা এমনিতেই অত্যন্ত ক্ষীণ।
এর আগে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছিল, উত্তরাধিকার তালিকায় পরিবর্তন আনার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হতে হলে পার্লামেন্টের দুই কক্ষে পাস হওয়ার পাশাপাশি রাজার সম্মতি প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জ্যামাইকা ও নিউ জিল্যান্ডসহ কমনওয়েলভুক্ত সেই ১৪টি দেশের সমর্থন লাগবে, যেখানে চার্লস তৃতীয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ইতিহাসে সর্বশেষ ১৯৩৬ সালে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে উত্তরাধিকার তালিকা থেকে কাউকে অপসারণ করা হয়েছিল। সে সময় স্বেচ্ছায় সিংহাসন ত্যাগ করায় অষ্টম এডওয়ার্ড ও তার বংশধরদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এপস্টেইন–সংক্রান্ত বিতর্কিত এক সাক্ষাৎকারের পর ২০১৯ সালে অ্যান্ড্রু সরকারি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান এবং পরবর্তীতে তার বিভিন্ন রাজকীয় খেতাবও প্রত্যাহার করা হয়।
রাজতন্ত্রের ভাবমূর্তি ও সাংবিধানিক কাঠামোর প্রশ্নে বিষয়টি এখন যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় পরিণত হয়েছে। তদন্তের চূড়ান্ত ফল এবং সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ—দুটির দিকেই এখন নজর সবার।