ক্ষমতা হস্তান্তরের পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অবস্থান করছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ করেছেন মুহাম্মদ ইউনূস। নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তারেক রহমান। বুধবার ১২ ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অধ্যাপক ইউনূসের দায়িত্বকাল সমাপ্ত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব শেষ হলেও তিনি এখনো রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অবস্থান করছেন। নিয়ম অনুযায়ী আরও তিন মাস সেখানে থাকার সুযোগ থাকলেও তিনি আগেই ভবনটি ছেড়ে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল যমুনা পরিদর্শন করেছে।
অধ্যাপক ইউনূসের ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, বর্তমানে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ভাবছেন। বিশেষ করে অসুস্থ স্ত্রীর পাশে সময় দেওয়ার বিষয়টিকে তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। পাশাপাশি নিজ প্রতিষ্ঠিত ইউনূস সেন্টারে ফেরার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নথিপত্র ও সাংগঠনিক কাজ গুছিয়ে নিচ্ছেন।
ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ঈদের পর বা আগামী মাসে তিনি গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরে যেতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। একই সঙ্গে তরুণদের জন্য নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়ার চিন্তাভাবনাও করছেন তিনি, যদিও সেসব পরিকল্পনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নতুন সরকার গঠন করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। এছাড়া ১০ জনকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক অধ্যায় শেষ হলেও জনজীবনে অধ্যাপক ইউনূসের উপস্থিতি ও ভূমিকা নিয়ে আগ্রহ এখনো প্রবল। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব থেকে ব্যক্তিগত পরিসরে ফিরে যাওয়ার এই সময়টিতে তিনি যেমন পরিবারকে সময় দিচ্ছেন, তেমনি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নতুন দিগন্তও উন্মোচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন—যা আগামী দিনে দেশের জন্য নতুন বার্তা বয়ে আনতে পারে।