সিলেটের শফিকুর রহমানের ঋণ নেই, ৩২ মামলা থেকে অব্যাহতি
সিলেটের বাসিন্দা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন (মিরপুরের একাংশ ও কাফরুল) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৬৭ বছর বয়সী এই নেতা তার জমা দেওয়া হলফনামায় জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে থাকা ৩৪টি মামলার মধ্যে ৩২টি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন, খালাস হয়েছেন অথবা মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে দুটি ফৌজদারি মামলা হাইকোর্টে স্থগিত রয়েছে।
হলফনামার তথ্যমতে, ডা. শফিকুর রহমান এমবিবিএস পাস এবং পেশায় চিকিৎসক। তার স্ত্রী আমেনা বেগম গৃহিণী, যিনি অষ্টম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ছিলেন।
জামায়াতের আমির তার হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, ২০০৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে তার বিরুদ্ধে মোট ৩৪টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার মধ্যে ৩০টি ঢাকায় এবং দুটি সিলেটে দায়ের করা হয়েছিল। ২০১২ সালেই তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি—২০টি মামলা করা হয়।
মামলার নিষ্পত্তির বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১০টি মামলায় তিনি অব্যাহতি পান, ৮টি মামলা প্রত্যাহার হয় এবং একটি মামলায় খালাস পান। ২০২৪ সালে তিনি ৬টি মামলায় অব্যাহতি ও ৫টি মামলায় খালাস পান। এ ছাড়া ২০১৭ সালে সিলেটে একটি মামলায় খালাস এবং ২০২১ সালে আরেকটি মামলায় অব্যাহতি পান তিনি।
হলফনামায় দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, ডা. শফিকুর রহমানের নামে কোনো ঋণ নেই। তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ করবর্ষে তিনি ৩০ হাজার টাকা আয়কর প্রদান করেছেন।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নগদ অর্থ রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। বিভিন্ন বন্ড, ঋণপত্র এবং শেয়ার বাজারে তার বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২৭ লাখ ১৭ হাজার টাকা। এ ছাড়া তার একটি গাড়ি রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার কাছে রয়েছে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, যার অধিগ্রহণকালীন মূল্য ১ লাখ টাকা। ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য যথাক্রমে ২ লাখ ও ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ১ কোটি ২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।
স্থাবর সম্পদের হিসাবে দেখা যায়, তার কৃষিজমি রয়েছে ২১৭ শতক, যার অর্জনকালীন মূল্য ১৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা। অকৃষিজমি রয়েছে ১৩ শতক, যার মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া তার নামে ১১ দশমিক ৭৭ শতকের একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে, যার অধিগ্রহণকালীন মূল্য ছিল ২৭ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার স্থাবর সম্পদের মূল্য ৪৭ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৪ টাকা।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার স্ত্রীর কোনো আয় বা সম্পদ নেই। তবে তিন সন্তানের সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে এক মেয়ের সম্পদের পরিমাণ ৫ লাখ টাকা, আরেক মেয়ের ১৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং ছেলে রাফাত সাদিক সাইফুল্লাহর সম্পদের পরিমাণ ৩০ হাজার টাকা।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করা হয়। ফলে ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন শফিকুর রহমান, তবে তিনি পরাজিত হন। ওই নির্বাচনটি ‘রাতের ভোট’ হিসেবে পরিচিত।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও প্রতীক পুনর্বহাল করা হয়। ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করবেন।