গোয়াইনঘাটে বালু মহাল বিতর্কে ওসি মনিরুজ্জামানকে ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ, মানবিক পুলিশিংয়ের পক্ষে স্থানীয়দের অবস্থান
গোয়াইনঘাট উপজেলার হাজীপুর আহারকান্দি বালু মহালকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনার মধ্যে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানের নামও উঠে এসেছে। তবে স্থানীয়দের একটি বড় অংশের দাবি, প্রশাসনিক একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্কে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা তার মানবিকতা, পেশাদারিত্ব এবং সাধারণ মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের নানা দৃষ্টান্ত তুলে ধরছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোয়াইনঘাটে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ওসি মনিরুজ্জামান থানাকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য ও সেবামুখী করার চেষ্টা করেছেন। দিন কিংবা রাত, বিভিন্ন প্রয়োজনে থানায় আসা মানুষকে আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দেওয়া এবং অভিযোগ দ্রুত শোনার বিষয়ে তিনি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে আসছেন বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
এলাকার অনেক বাসিন্দার ভাষ্য, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন। পারিবারিক বিরোধ, সামাজিক সমস্যা কিংবা আইনগত জটিলতায় পড়া মানুষের কথা ধৈর্যের সঙ্গে শুনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার মানসিকতার জন্যও তিনি প্রশংসিত।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, গোয়াইনঘাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। মাদকবিরোধী অভিযান, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও তারা মনে করেন।
তাদের মতে, বালু মহালের ইজারা, সীমানা নির্ধারণ, রাজস্ব আদায় এবং প্রশাসনিক তদারকির বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত। পুলিশের দায়িত্ব মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। ফলে প্রশাসনিক বিষয়কে কেন্দ্র করে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে এককভাবে দায়ী করা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
এ বিষয়ে ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ ও তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি জানান, আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তার প্রধান দায়িত্ব।
তিনি বলেন, গোয়াইনঘাটে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে বা কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীস্বার্থ নয়, জনগণের সেবা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই পুলিশের মূল লক্ষ্য।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, কোনো অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। তবে তথ্য প্রমাণ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে কাউকে লক্ষ্য করে অপপ্রচার চালানো দায়িত্বশীল আচরণ নয়। তারা মনে করেন, সত্য উদঘাটনের স্বার্থে বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত যেমন প্রয়োজন, তেমনি একজন কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের সুনাম ও জনআস্থার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত।
গোয়াইনঘাটবাসীর একাংশের দাবি, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিক গুণাবলি, সাধারণ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ের মাধ্যমে ওসি মো. মনিরুজ্জামান যে আস্থা অর্জন করেছেন, তা কোনো অপপ্রচারে ম্লান হওয়ার নয়। তাদের প্রত্যাশা, সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।