প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি নির্দেশিকা প্রকাশ, নির্ধারিত হলো শ্রেণিভেদে অর্থের পরিমাণ
দেশের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়নের নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। নির্দেশিকায় কোন শ্রেণির শিক্ষার্থী কত টাকা উপবৃত্তি পাবে এবং তা পাওয়ার শর্তাবলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ প্রকাশিত এ নির্দেশিকা অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় এবং শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় থাকবে।
উপবৃত্তির অর্থ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী যেমন বইখাতা, স্কুল ব্যাগ, ছাতা, স্কুল ড্রেস, জুতা ও টিফিন বক্স কেনার কাজে ব্যবহার করা যাবে। সরকারের জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে এ উপবৃত্তি কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির প্রতিটি শিক্ষার্থী মাসে ৭৫ টাকা করে উপবৃত্তি পাবে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরিবারের একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলে মাসিক ১৫০ টাকা এবং একই পরিবারের দুইজন শিক্ষার্থী থাকলে মাসিক ৩০০ টাকা করে দেওয়া হবে।
এছাড়া যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি চালু রয়েছে, সেখানে একজন শিক্ষার্থী থাকলে মাসিক ২০০ টাকা এবং একই পরিবারের দুইজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলে মাসিক ৪০০ টাকা করে উপবৃত্তি প্রদান করা হবে। তবে একটি পরিবারের সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
উপবৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানতে হবে। প্রাক প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর ন্যূনতম বয়স চার বছর হতে হবে এবং প্রতি মাসে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ পাঠদিবসে উপস্থিত থাকতে হবে। প্রথম শ্রেণির ক্ষেত্রেও একই উপস্থিতির শর্ত প্রযোজ্য। দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রতি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নম্বরের শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ থাকতে হবে এবং অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত একটি সক্রিয় মোবাইল আর্থিক সেবা অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে, যেখানে সরাসরি উপবৃত্তির অর্থ পাঠানো হবে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী ধারাবাহিকভাবে তিন মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে তার উপবৃত্তি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। একইভাবে নির্ধারিত উপস্থিতি পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট মাসের উপবৃত্তি দেওয়া হবে না। তবে পরবর্তী সময়ে শর্ত পূরণ করলে আবারও উপবৃত্তি পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এই কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে এবং দরিদ্র পরিবারের শিশুদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করবে। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে এটি প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সহায়ক হবে।